FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

রসায়নে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান

রসায়নে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান

*

ইসলামের আগমনের পূর্বে রসায়ন বিজ্ঞান হিসেবে পরিচিত ছিলো না।রসায়নকে আলাদা একটি বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন আরবীয়ানরা।আরবরাই সর্বপ্রথম নিরীক্ষন পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।তাছাড়া, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষন ও সত্য উদঘাটনের প্রবল স্পৃহা আরবদেরকে বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে।রসায়ন বিষয়ে কুরআনে প্রচুর আয়াত আছে।সাধারণ রাসায়নিক দ্রব্য বিষয়ে আয়াত।দুধ ও মধু উৎপাদন, বৃষ্টি দ্বারা উদ্ভিদ ও সবজি উৎপাদন,বাতাস থেকে উৎপন্ন খাদ্য বিষয়ক বিভিন্ন আয়াতের উল্লেখ পাওয়া যায় পবিত্র কুরআনে।

প্রাচীন মিশরে প্রথম রসায়ন চর্চা শুরু হয়।পিরামিড তৈরির বহু পূর্বে নীল নদীর তীরে মেমফিসের বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরে পুরোহিতরা জোতির্বিদ্যা শেখাতেন।সেইসাথে করতেন বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা। এভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার এক পর্যায়ে আরবে ইসলামের আগমন ঘটে,আর আরবরাও রসায়ন শাস্ত্রের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।চিকিৎসা শাস্ত্র,জ্যোতি শাস্ত্র, গণিত ও ভূগোল শাস্ত্রের পরহ মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ অবদান হলো রসায়ন শাস্ত্রে।আরবরা আধুনিক শাস্ত্রের আবিষ্কার। রসায়ন শাস্ত্রকে আরবরা "আল কিমিয়া" বলত।আর তা হতেই মসূল আলকমি কেমিস্ট্রি শব্দ উদ্ভব হয়েছে।যা বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে রসায়ন শাস্ত্র নামে পরিচিত। তাই চলুন জেনে নেই মহীয়সী কিছু মুসলিম রসায়ন বিজ্ঞানী সম্পর্কে।

জাবির ইবনে হাইয়ানঃ
*

জাবির ইবনে হাইয়ান আধুনিক রসায়নের প্রর্বতক। তার আগে রসায়ন পূর্নাঙ্গ বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলো না।খলিফা হারুনুর রশিদের শাসনামলে তার রসায়ন চর্চার খ্যাতি দুনিয়াময় ছড়িয়ে পড়ে।সে সময় কুফায় তার একটি রসায়নগার ছিলো বলে জানা যায়। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে নাদিম তার বিখ্যাত "ফিহরাসত" গ্রন্থে ইবনে হাইয়ানের রচনা সম্ভার লিপিবদ্ধ করেন।সেখানে বলা হয়, 'তার রচিত ছোটো বড় কিতাবের সংখ্যা দুই হাজারের অধিক'।তার গ্রন্থের সংখ্যা এত বেশি যে,পন্ডিত ব্যাক্তিদের নিকট বিরাট একটি অংশ এখনো অজ্ঞাত রয়ে গেছে। রসায়ন শাস্ত্র বিষয়ক তার শ্রেষ্ঠ কিতাব হল "আসারারুল কিমিয়া " "উসুলুল কিমিয়া " "আর রাহমা" ইত্যাদি। তার গ্রন্থ গুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি ছিলেন একাধারে দার্শনিক,রসায়ন শাস্ত্রবিদ,চিকিৎসাবিজ্ঞানী,মহাকাশ বিজ্ঞানী।

আল রাযীঃ
*

চিকিৎসা শাস্ত্রের পাশাপাশি রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় আল রাযীর অবদান অপার ও অসীম।তিনি সর্বপ্রথম সালফিউরিক এসিড আবিষ্কার করেন।রসায়ন বিষয়ের উপর আল রাযী ১২ টি গ্রন্থ রচনা করেন বলে জানা যায়।

ইবনে ইয়াযিদঃ
*

ইবনে ইয়াযিদ রসায়নের ইতিহাসে তিনি ঐতিহাসিক চরিত্র।গ্রিক ভাষায় রচিত বিজ্ঞানের অনেক বই সর্বপ্রথম আরবিতে অনুবাদ করেন তিনি।তিনি মিসরে গিয়ে রসায়ন চর্চা করেন।আল রাযী,আবুল কাসেম প্রমূখ খ্যাতিমান রসায়নবিদগন তাদের মূল্যবান রচনায় রসায়ন সম্পর্কে তার মতামত নিয়ে আলোচনা করেন।

আর হুমায়রী ও আস সাদিকঃ

হারবী আর হুমায়রী ও জাফর আসে সাদিক দুইজনই ছিলেন আধুনিক রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানের শিক্ষক। তারা মিসরের রসায়ন সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান রাখতেন।ইবনে হাইয়ান তাদের রসায়নিক তত্ত্ব গুলো নিয়ে তার রচিত গ্রন্থে বিস্তর আলোচনা করেন।

ইবনে ফিরনাসঃ
*

মুসলিম রসায়নবিদদের মধ্যে আরেকটি উল্লেখ যোগ্য নাম হল আব্বাস ইবনে ফিরনাস।তিনি ছিলেন একাধারে আবিষ্কারক, প্রকৌশলী এবং উড্ডয়ন বিশারদ ছিলেন। রসায়ন শাস্ত্রে তার অসামান্য অবদান রয়েছে।

আন নাবতীঃ

পুরো নাম আবু বকর আহমেদ ইবনে আলী ইবনে কায়েস আন-নাবতী।ইরাকে জন্মগ্রহণকারী এই রসায়নবিদের রসায়ন বিষয়ক শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হল "উসুলুল কাবির"।

তাছাড়া আল-তাতিমী,আল-মাজরিতি,ইবনে সিনা,ইবনে রাসসাম,আল সাদিক ইত্যাদি অসংখ্য মুসলিমের হাত ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে আমাদের আজকের আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞান।

*




2 Comments 725 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2024